আমাদের চারপাশে সবাই প্রায় সাধারণ ধার্মিক মানুষ,ধর্মীয় জ্ঞানও খুবই সাধারণ মানের।সারাদিনের কাজের সাথে সাথে যতটা সম্ভব ধর্মীয় নির্দেশ পালন করে চলে প্রায় প্রশ্নহীন ভাবে ,কিংবা প্রশ্ন মনে উদয় হওয়ার সাথে সাথে 'অতিপ্রাকৃত শক্তির 'ভয় ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার আশংকা, তা সংবরণ করতে বাধ্য করে।
ছোটো থেকে নিজের সামাজিক পরিবেশ থেকে দেখে ও শুনে,
মন্দির,মসজিদ, গির্জা কিংবা বাড়ির পুজোর ঘরে আস্তে আস্তে অলৌকিক শক্তির ধারনা করে তোলে ও এখানে পবিত্রতা ও শান্তি খুঁজে নিতে শেখে।ফলে কচি মুক্ত মনটিতে না পাওয়া ঊত্তর গুলোকে 'অতিপ্রাকৃত শক্তির' সাথে জুড়ে নেয়, যা জীবনের শেষ দিন অবধি বহু কিছু খসিয়ে দিলেও, 'অতিপ্রাকৃত শক্তি 'টিকে ঠিক প্রানপনে আঁকড়ে থাকে, অল্প কিছু জনই এর থেকে মুক্তি পেয়ে নাস্তিক ঊপাধি নিয়ে সমাজ থেকে তিরস্কার আদায় করে নেয়।
মুক্ত মন গুলো বাঁধা পড়ে বিশেষ বিশেষ খাঁচায় ও তার মধ্যেই নিজেকে দৃঢ় রাখে ,যা যুক্তির আলো প্রবেশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। জন্ম নেয় 'অতিপ্রাকৃত শক্তি'তে বিস্বাসী আরো একজন।সময়ের সাথে সাথে ধর্মীয় নির্দেশ কাটছাঁট করলেও শেষ পর্যন্ত মনের মুক্তি আর ঘটে না আর শোষক দলের কাছে নিজেদের ঊপযুক্ত প্রমাণ করতে সামর্থ্য হয়, ফলে 'দেশপ্রেমিক 'হতেও নিজেকে সাহায্য করে।
শিক্ষার আলো পাওয়া ধার্মিক গন আরো দারুন কমেডি শো করে চলে প্রতিনিয়ত। এদের ধর্ম নাকি পুরোই সায়েন্টিফিক!! বিঞ্গানের টার্ম গুলোকে( বিগব্যাং, প্লাস্টিক সার্জারি, ন্যাচারাল পাওয়ার ইত্যাদি) শোনা মাত্র্ই ধর্ম গ্রন্থেরই অংশ ভেবে নিয়ে সুখ নিদ্রা দেয় ,আর পড়ে থাকে নৈতিক কিছু ঊপদেশ,অথচ ধর্মের নির্দেশ গুলোকে সার্বিক বিজ্ঞানসম্মত করতে গেলে আপনার ওই হিন্দু, মুসলিম ইত্যাদি কোনো কিছুরই আর অবশিষ্ট থাকবে না ফলে আপনার ধর্মটির্ই বিলুপ্ত ঘটবে, আপনি আবার তাও ঘটতে দেবেন না!!এরা কোনো দিনও বোঝেনা যে আপনাদের ধর্ম গুলি বিঞ্গান থেকে শত যোজন দূরে অবস্হিত।
এরা সারাদিনের ক্লান্তি, ও অস্হিরতার শেষে শান্তি পেতে মায়ের কোল, কিংবা নদীর পাড় খুঁজবে না তাও যদি না পায় রিলাক্সেশনও গ্রহণ করবে না, যা হাজার গুন সুস্থ শান্তি দিতে পারে,ঘুরেফিরে 'অতি লৌকিক 'শক্তির কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে 'শিক্ষিত অন্ধ'প্রমাণ করবে!! আলোর মুখ তাই এদের আর কোনো দিন দেখা হয়ে ঊঠেনা, খাঁচাটির মধ্যই পরিতৃপ্তি পায়।
মুক্ত চিন্তার কথা তুললে খোলসের মধ্যে গুটিয়ে রেখে নিজেকে নিরাপদ অনুভব করে, আর মুক্ত চিন্তা কে মনে করে কোনো ভিনগ্রহী বিশয় হিসেবে।

Comments
Post a Comment