পরমব্রহ্ম : একটি ঊত্তরের খোঁজে বহু শতক পার


পরমব্রহ্ম শব্দটির সাথে আমরা মোটামুটি ভাবেই পরিচিত,এখানেই নাকি রয়েছে জীবনের মোক্ষ ও অফুরন্ত আনন্দের কেন্দ্রস্হল । এখন প্রশ্ন হলো পরম ব্রহ্ম বলতে কি বোঝানো হয়েছে?এর প্রকৃতি কিরূপ?
এইসব প্রশ্নের ঊত্তরে স্পষ্টই ঊল্লেখ আছে যে,পরমব্রহ্মের সাথে সখ্যতা হলো ইন্দি্রয় জ্ঞানের ওপারের (বা অতিন্দ্রীয়), অর্থাৎ আমাদের এই আলোচনা নিতান্তই ব্যর্থ হতে বাধ্য,
পরমব্রহ্ম কে জানতে বা বুঝতে আমরা তার প্রাথমিক কিছু ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে পারি মাত্র। স্পস্টতই একটি বিশয় ঊঠে এলো তা হলো এটিকে অনুভব করতে হয় বা তার থেকে বেশি কিছু, তবেই মিলবে 'পরম সত্য 'বা 'শতভাগ শুদ্ধতা' কিংবা 'অমৃতের স্বাদ'।
অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যে শান্তি পায় তা অবিশুদ্ধ ও বহুক্ষেতরে নীচ শান্তি অথবা অমৃতের স্বাদ যেটুকু পায় তা পরমব্রহ্মের কিছু মাত্র অংশের।
সুতরাং, বিশুদ্ধ অমৃতের স্বাদ পেতে নিজেকে তৈরি করতে হয়।
যেহেতু এখানেই পৃথিবীর সব সুখ নিহিত তাই ইহাকেই জীবনের আদর্শ করা ঊচিত। আর তারজন্য যা করতে হয় তা হলো রিপু(শত্রু)র বিলোপ ঘটানো, নিজেকে যা ছোট করে,হীন করে সেগুলোর পূর্ণ বর্জন,যাঁরা এই পথের 'চরম লক্ষ্'য়ে পৌছেছেন বলে দাবি করেন ওনারা মানুষের ছটি রিপু চিহ্নিত করেছেন। আলোচনা ছোট করার স্বার্থে ছটি রিপুর দু-একটি নিয়ে আলোচনা করছি। কাম বা সেক্স,এটিকে নিস্ক্রিয় করে দিতে হবে 'ঈশ্বর' পা্রপ্তি লাভ করার জন্য।
মোহ,থেকে জাল ছিন্ন করতে বলেছেন,পৃথিবীতে স্ত্রী পুত্র পরিবার কিছুই নেই সবই মায়া, সবই ব্রহ্ম, তুমিও ব্রহ্ম,আমিও ব্রহ্ম,ও কামনা-বাসনা বলে কিছু রাখা যায়না।যে কারনেই রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসী থেকে নাঙ্গা বাবারা বিবাহ করেন না, কামের ঊদ্ধে থাকেন বা চেষ্টা করেন। এটা কি জীবনের আদর্শ হতে পারে?? এবার ধরুন সবাই এই 'বিশুদ্ধ অমৃত' পেতে নেমে পড়লে মানব জীবনই ধ্বংসের মুখে পড়ে যাবে। চরম লক্ষ্যে পৌছানোর ভয়াবহ অমানবিক পরিনতি ঊঠে এলো।
এবার আসি আমার বক্তব্যে।আপনি যেমন ধরনেই অনুভূতি পাননা কেন তা কোনো ভাবেই অতিন্দ্রীয় নয়,যা ঘটে দেহ সিস্টেমের মধ্যেই ঘটে আপনি শুধুমাত্র অতিন্দ্রীয় আনুভূতি বলে অপূর্বতার মাত্রা প্রকাশ করতে পারেন মাত্র।তাহলে মানুষ কিভাবে অমৃতের স্বাদ পায়,জীবনের আদর্শ কি?
মানব গুণের সঠিকভাবে বিকশিত করা ও সৃষ্টিই জীবনের অমৃতের স্বাদ অর্থাৎ মনুষ্যত্বের চরম বিকাশই জীবনের আদর্শ।
কোনো সুস্থ মনের ব্যক্তি সুস্থ থাকতে পারেন না কিংবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন যদি অসুস্থ সমাজে থাকেন, তাই সাথে সাথে অনুকুল হতে হয় তার প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ কেও। মানব গুনের বিকাশে এই পরিবেশের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সাথে শিক্ষা এই গুন গুলোকে আরোও পরিমার্জিত করে তোলে। সাধারণ মানুষ ধর্মক্ষেত্রে যে শান্তিটুকু পায় তা নিতান্তই অলীক ও তারজন্য মানুষকে অপূরণীয় মূল্য চোকাতে হচ্ছে,এমনকি মনুষ্যত্বের সুস্থ বিকাশেও ব্যর্থ, মানুষ যতটুকু সুস্থ বিকাশ ঘটিয়েছে তার পুরোটাই প্রয়োজন ও প্রজ্ঞা থেকে।
সাথে কতগুলো বিশেষ কারনে শোষকদের শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ঊঠেছে 'ধর্ম',তাই যেদিক দিয়ে যেমন করেই ভাবুন না কেন 'ধর্ম' থেকে মানুষের মুক্তি একান্তই বাঞ্ছনীয়।আজ ধর্মের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, মানুষ যতই শিক্ষিত হচ্ছে ততই ধর্মের বেড়া থেকে বেড়িয়ে আসছে,আজ তৃতীয়তম স্হানে অধার্মিকরা,আগামী দুশো বছরে কি হবে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখেনা।
আজ থেকে সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে শুরু করলে আগামী দুশো বছর পর এক সোনালি ভোর পাবো এটুকু ভাবতে অসুবিধা দেখিনা।


Comments