বিষয়: রামকৃষ্ণ মিশন


মিশন নিজেদের হিন্দুধর্মের থেকে আলাদা দাবি করে হাইকোর্টে মাইনোরিটি রিলিজিয়ান করার জন্য দরখাস্ত জমা দিলো।যেখানে মিশন এতোদিন নিজেদের হিন্দু রিফর্মার ভাবতেই ভালোবাসতো সে আজ নিজেদের হিন্দুধর্ম থেকে আলাদা এক গোষ্ঠী দাবি করার মুলত একটাই কারণ আর্টিকেল ৩০ অনুসারে মাইনোরিটি রিলিজিয়ান হতে পারলে নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে মিশন স্কুল গুলো চলবে সাথে পাবে আরোও বেশকিছু সুবিধা।নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত স্কুল হলে সুবিধা অনেক,তার একটা শিক্ষার মান বাড়ান নয় বরং মিশনের নিজেদের কাজের রিপোর্ট অনুসারেই একটা প্রধান ভাগ আধ্যাত্মিক শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া, মোদ্দা কথায় ধর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ খুল্লামখুল্লা করা সম্ভব হবে স্কুলগুলিতে।
সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি জানালো 'আপনারা তো হিন্দু', তারপর মিশন আর ওমুখো হয়নি বরং নিজেদের আগের মতোই আইনের ফাঁক দিয়ে স্টুডেন্টদের ধর্ম শিক্ষা দিয়েছে।এই ফাঁক তৈরির জন্য নতুন একটা আবশ্যিক সাবজেক্ট করে দিয়েছে যার নাম ধর্ম শিক্ষায় জীবন নির্মাণ নয় বরং একটু পাল্টে - ভারতীয় সংস্কৃতি ও মোরাল এডুকেশন!
কি নেই এখানে বেদ-বেদান্ত থেকে শুরু করে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অবধি।কিন্তু সবই সংগোপনে একটু-একটু, আপনি যদি নেহাতই ধার্মিক হোন তবে এই বইয়ে ত্রুটি কিছুই পাবেননা বরং মনে হবে সবই তো সঠিক বলেছে। ধর্মের গন্ধ টুকুও পাবেননা যেমন করে একজন মাতাল আর একজন মাতালের গায়ে কোনো মদের গন্ধ পাননা ঠিক তেমনি।
ধর্মকে কিভাবে টিকিয়ে রাখতে হয় মিশন জানে, আর জানে বলেই ছেঁকে নেওয়া মেধাবী স্টুডেন্টদের স্কুলে নেয়।মেধাবীরাই সমাজ নিয়ন্ত্রণ করে,এরাই বড়ো বড়ো চাকরি করবে আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা যেহেতু ধার্মিক পরিবার থেকে আসে তাই এদের মধ্যে বড়ো হওয়ার সাথে সাথে আধ্যাত্মিক জগৎ নিয়ে যেটুকু সন্দেহের বীজ জন্মায় তা খুব মনোবৈজ্ঞানিক ভাবেই ধ্বংস করে দেয় বরং বেশিরভাগই নিজেদের হিন্দু ধর্ম নিয়ে বেশ আত্মতুষ্টি লাভ করে আর তাতেই প্রশ্ন করার বিষয়ই মগজে আনেনা। বরং হিন্দু ধর্ম নিয়ে কেউ কিছু বললেই ওরা বলে 'তোমরা হিন্দু ধর্মের গভীরে যাওনি তাই এমন বলছো'।দু-একজন ব্যতিক্রমী সবজায়গায় থাকে তাদের বাদ দিলাম।
মিশন স্কুল রেজাল্ট ভালো করে এতেই মজে থাকবেন কতোদিন? মিশন স্কুলে পড়া ছেলের বাবা গর্বের সাথেই জানালো প্রায় পাঁচহাজার জন ক্লাস ফাইভে এডমিশন এর জন্য পরীক্ষা দিয়েছিল তা থেকে কুড়ি জনকে নিয়েছে তারমধ্যে ওনার ছেলে ছিলো। তীব্র কম্পিটিশন এর মধ্যে একদম ঝকঝকে মেধাকে বেছে নিচ্ছে সেখানে রেজাল্ট তো ভালো হবেই যেমন করে রেজাল্ট ভালো করে আল-আমিন ও, সাথে এতে রেপুটেশন ঝকঝকে হয়ে যায়।
এটা কেমন একটু বোঝাই,মফস্বলের দিকে যাদের যাতায়াত আছে তারা বেশ ভালোই জানে ওখানকার দোকানগুলোতে এখনো স্পেসালাইজেশান আসেনি ফলে মুদি দোকানেই রিচার্জ কার্ড থেকে পান অবধি পেয়ে যাবেন, এমনই একবার একটা দোকানে জুতো কিনতে ঢুকে দেখলাম দোকানদার সব দামি জুতোই রেখেছে কৌতুহল হয়ে জিজ্ঞেস করলাম আপনার কাছে সব দামী জুতোই দেখছি সস্তা জুতো রাখেননি কেন তাতে দোকানদার বললো সস্তা জুতো রাখলে কাঁসা ব্যবসাতে প্রভাব পড়বে,আসলে ওনার প্রধান ব্যবসা কাঁসার তাইই দোকানের বেশিরভাগ জুড়ে রয়েছে সেখানে দামি জুতো একদিক থেকে ব্যবসা আর রেপুটেশন দুই বাড়িয়ে দিচ্ছে। মেধাবী ছেলে গুলো ঠিক এরই কাজ করছে একদিকে ওরা ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করতে ভুলে সমাজে ধর্মকে টিকিয়ে রাখার আসল কাজ করছে আর অন্যদিকে ওদের রেজাল্ট কাজে লাগাচ্ছে নিজেদের জাঁকজমক বজায় রাখতে।
এখানে আর একটা কথা, ভুলেও মিশনকে বলবেন না কো-এড স্কুল চালু করতে কারণ ওদের আইডিওলোজিতেই নারীরা নরকের দ্বার।আবার আরএসএস-দের সাথে মিশনের সম্পর্কটা ঠিক যেমনটা আইএসআইএস এর সাথে উগ্র-মুসলিম ধর্মগুরুদের সম্পর্ক। বাইরে বলে আমি ওদের সাপোর্ট করিনা হ্যনাত্যনা ভেতরে ভেতরে ভাবে ওরাতো আমাদেরই সুবিধা করছে।

সমাজের মেধাবীদের ধার্মিক ভাবনা টিকিয়ে রেখে কিভাবে 'শিক্ষিত ধার্মিক' বানাতে হয় এবং বেশকিছু প্ল্যান দেখে মনে হয়েছে মিশন ধর্মকে টিকিয়ে রাখার কায়দা শিখেছে একদমই নিঁখুতভাবে অন্য আর কোনো সংগঠন এতোটা নিঁখুত নয়।পরবর্তীতে অন্যান্য ধর্ম সংগঠনও এই পথ অনুসরণ করবে বলেই আমার বিশ্বাস।

Annual celebration in Ramakrisna math
Annual celebration in Ramakrisna math ,source wikipedia commons

Comments