অনেকদিন পর মন্দির গিয়েছিলাম, এক প্রিয়জনের আবদার রাখতে (নাম অপ্রকাশ্য আপাতত,তাই ধরে নিন প্রিয়জনটির নাম, মৌ )।
মৌ আদর মাখানো গলায় আমার হাতটা আলতো করে ধরে রেখে বলেছিল 'পুজো দিতে যাবো,চলোনা আমার সাথে, কি গো?যাবে আমার সাথে?' বারদুয়েক বলতে না করতে পারিনি,ওর হাতটা চেপে ধরে বললাম যেতে পারি তবে আমি পুজো দেবো না, শুধু তোমার পাশে থাকবো।
মৌ, আমার খামখেয়ালিপনা বেশ ভালোই জানে তাই আর কিছু না বলে শুধু ওর আনন্দ প্লাবিত চোখদুটো দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো।
এক শান্ত সকালে তিনজনে বেরিয়ে পড়লাম,এক দাদা, মৌ,আর আমি।
বাইকএ, রাস্তার দুপাশে সারি সারি গাছ ফাঁকা জমি,মাটির ঘর দেখতে দেখতে পৌঁছেগেলাম কর্নগড় মন্দিরে!
শহর থেকে বহুদূরে শান্ত সবুজ গ্রাম, মন্দিরের চারিদিক ফুল-পাখি দিয়ে আদর করে সাজানো, মনটা ভরে গেলো।
মন্দিরের অনেক কল্পিত মজাদার কাহিনীও শুনলাম,
যারা পুজো দিতে এসেছে সবাই দেবী মুর্তির পাশেই ঝকঝকে মেঝের ঊপর বসে আছে। কেমন করে পুজো দেওয়া হয় দেখার জন্য মৌ এর পাশে আমিও বসে পড়লাম।
সবাই একটা করে ফুল হাতে রেখে পুরোহিতের বলা মন্ত্রের সাথে সাথে বলে পুরো মন্ত্রটির শেষে ফুলটি ফিরিয়ে দিলেই পুজো শেষ।
সবাই একটা করে ফুল তুলে নিচ্ছিল, আমার হাতে মৌ একটা গাঁদাফুল খানিকটা জোর করেই গুঁজে দিলো, সবাই মন্ত্র ঊচ্চারন শুরু করতে আমি মৌ এর অলক্ষ্যে ওর পাশেই মেঝের ঊপর ফুলটা রেখে দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম মানুষ গুলোর দিকে।
এদের এই আবেগ, শ্রদ্ধা কত পবিত্র একমনে বসে আছে সবাই! অথচ,
এ আবেগ যে মিথ্যা, এই পবিত্রতা- শ্রদ্ধা সব সব মিথ্যার ঊপর দাঁড়িয়ে!কে বলবে ওদের??এই আপাত নিরীহ মানুষ গুলোই এই মিথ্যা আবেগের বশে হিংস্র হয়ে ঊঠে রক্তের বন্যা অবধি বইয়ে দিতে পারে! কেমন করে হলো এতসব??এমন হাজারো প্রশ্ন ভেসে আসছিলো বারবার, আমার কিছুই করার ছিলো না,শুধু চুপচাপ বসে ছিলাম।
ভাবতে ভাবতে পুজো শেষের দিকে, একে একে সবাই ফুল ফিরিয়ে দিচ্ছে। মৌ আমার হাত খালি দেখে কিচ্ছুটি বলেনি,প্রনাম করেই চুপচাপ বাইরে বেরিয়ে এসেছিল।
আমার দেওয়া কষ্টে,ওর বেদনা ভরা মুখটার দিকে আমি চেয়েছিলাম।

Comments
Post a Comment